হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার সমূহ বৈধ ন্যায্য অধিকারের দাবিতে ফরাসী স্কুল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে নিষ্ঠুর ভাবে দমন এবং প্রতিবাদ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন অব্যাহত রাখার জন্য ফরাসী সরকারের নিন্দা করছে না
এবং এ ঘটনা ইরানে ঘটলে এই ফরাসী সরকারসহ সকল পশ্চিমা সরকারগুলোই এক যোগে এক সাথে ইরান সরকারের নিন্দা করত, ইরানের বিরুদ্ধে তারা ব্যাপক মিথ্যা প্রচার প্রোপাগান্ডা চালিয়ে বলত,"ইরান সরকারের কোনো জনপ্রিয়তা নেই এবং তা পতনের দ্বারপ্রান্তে!!!"
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত হারাল ১৫ বছরের কিশোর
এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের মতো নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করত।অথচ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এগুলোর কোনো কিছুই করছে না পশ্চিমা সরকারগুলো এবং তাদের মেইন স্ট্রিম (প্রধান ধারার) প্রচার মাধ্যম সমূহ!
বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি ও সামরিক
পরাশক্তি, উন্নত,ধনী ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অধিকারী দেশ হয়েও কেন ফ্রান্সের এত গুরুতর শোচনীয় ধ্বজভঙ্গ দূরাবস্থা? অথচ ফ্রান্স ইরানের মতো ৪৬ বছর ধরে ভয়ানক ও ভয়াবহ তাহরীমের (অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা ও স্যাংকশন) শিকার নয় এবং ইরানের ওপর মাযুরা ও ইসরাইলের চাপানো প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের মতো কোনো যুদ্ধ ফ্রান্সের ওপর কোনো পরাশক্তি চাপিয়ে দেয় নি!!!
তাহলে ফ্রান্সের স্কুল ও বিদ্যালয় সমূহ ও শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা এত শোচনীয় কেন? এখন ফরাসী সরকার ন্যায্য দাবি ও বৈধ অধিকার নিয়ে ফরাসী স্কুল শিক্ষার্থীদের এ প্রতিবাদ বিক্ষোভকে রায়ট, দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং প্রতিবাদ বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদেরকে গোলযোগ সৃষ্টি কারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কারী বলছে অথচ এই ফরাসী সরকার ও পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারগুলো
বিশেষ করে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও ইতরাইল (ইসরাইল) এ বছর (২০২৬) জানুয়ারি মাসে নিজেদের এজেন্ট, গোয়েন্দা ও বেতনভুক চরদের উস্কানি ও প্রত্যক্ষ মদদ দিয়ে ইরানে যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা-হাঙ্গামা,গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিয়েছিল সেটাকে 'প্রতিবাদ বিক্ষোভ' বলেছে।
দেখুন: ফ্রান্স ও পশ্চিমা দেশগুলোতে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য এবং পশ্চিমাদের উস্কানি, মদদ ও প্ররোচনায় ইরানের মতো পশ্চিমা বিরোধী দেশের অভ্যন্তরীণ গণ্ডগোল, গোলযোগ, বিশৃঙ্খলা, দাঙ্গা, রায়ট ও মারামারিকে 'শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ' বলে অভিহিত করে।আর পশ্চিমা দেশগুলোয় যালিম বৈষম্য সৃষ্টি কারী পশ্চিমা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার কায়েমী স্বার্থবিরোধী যে সব শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সেগুলোকে যেমন: ফ্রান্সে বর্তমানে দুই সপ্তাহ ধরে চলমান স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশকে রায়ট, দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা ইত্যাদি বলছে ফরাসী সরকার।
এটা আসলে প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতাকে উল্টিয়ে দেখানোর পশ্চিমা রীতি ও কারসাজি।তারা (পশ্চিমারা) খুবই দক্ষতার সাথে যালেমকে মযলূম এবং মযলূমকে যালেম দেখায়। একারণেই স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মযলূম ফিলিস্তিনী ও লেবাননী জাতি ও প্রতিরোধকারী ফিলিস্তিনী ও লেবাননী দল ও সংগঠনসমূহ
যেমন: হামাস, ইসলামী জিহাদ এবং হিযবুল্লাহকে পশ্চিমারা সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদী এবং আগ্রাসী জবরদখল কারী বৈষম্যবাদী যালেম সন্ত্রাসী সন্ত্রাসবাদী ইসরাইলকে মযলূম ও আত্মরক্ষাকারী বলে অভিহিত করছে। এটাই (হচ্ছে) পশ্চিমা দেশগুলো কর্তৃক সত্যের চরম অপলাপ ও লঙ্ঘন।
শিক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা যে কোন জাতির মেরুদণ্ড ও সভ্যতার প্রতীক। কিন্তু আজ ফ্রান্সের মতো অতি উন্নত অতি ধনী অত্যাধুনিক পশ্চিমা দেশের বিদ্যালয় ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বাজেটের অভাবে অথবা ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে ফরাসী স্কুলগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা,
শিক্ষকের অভাব ও স্বল্পতা, ক্লাসরুমে স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়েও বেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা, টয়লেট না থাকা বা টয়লেট সমূহে পানির ব্যবস্থা না থাকা এবং দরজা জানালা না থাকা ইত্যাদির মতো ভয়ানক দুরাবস্থা,স্কুলের শ্রেণী কক্ষ ও কিচেনে ইঁদুরের আনাগোনা এবং গ্রীষ্মের তীব্র গরমে শ্রেণীকক্ষে পাখা বা কুলার না থাকার জন্য তা অত্যধিক উত্তপ্ত এবং
শীতকালে হিটারের মতো গরম করার ব্যবস্থা না থাকায় প্রচণ্ড ঠাণ্ডা হওয়া ইত্যাদি যা স্কুল শিক্ষার্থীদের দুই সপ্তাহ ব্যাপী এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়ে যায়।এখন ফরাসী জাতির শিক্ষাব্যবস্থার এমন জরাজীর্ণ অবস্থা এই জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়ার প্রমাণ ও নির্দেশক নয় কি?!!!
ফ্রান্স ও পশ্চিমা দেশগুলোর যদি এমন অবস্থা হয় অর্থাৎ এত মারাত্মক সমস্যায় জর্জরিত হয় দেশটি তাহলে এরা (পশ্চিমারা) কি করে সমগ্র বিশ্বের সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য ও সক্ষমতার দাবি করে? যার যে জিনিসটা নেই সে সেটা দিতে পারে না (ফাক্বিদুশ্ শাইয়ি লা ইয়ু'ত্বী فاقد الشیء لا یعطي)। অতএব বিশ্ব বাসীর উচিত হবে কি ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে বিশ্বের সমস্যা সমূহের সমাধান আশা করা?!!!! কিন্তু পাশ্চাত্য প্রেমিকরা তো পাশ্চাত্য ছাড়া যে জীবন যাপন করা সম্ভব তা শয়নে স্বপনে ও জাগরণে ধারণাই করতে পারে না।
ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট